আল-কোরআন তেলাওয়াতের সহীহ বুখারীর ১২টি হাদিস

প্রিয় পাঠক আপনি কি আল কোরআন তেলাওয়াতের সহীহ বুখারীর হাদিস খুঁজছেন তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্যই।

quran

কারণ আজকের এই পোষ্টের মধ্যে আল-কোরআন তেলাওয়াতের সহীহ বুখারীর হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই আপনি যদি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়তে পারেন তাহলে অবশ্যই আল কুরআন তেলাওয়াতের সহীহ হাদিস গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে চলুন সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে নেয়া যাক।

পোস্ট সূচীপত্রঃ আল-কোরআন তেলাওয়াতের সহীহ বুখারীর ১২টি হাদিস 

  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৭
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৮
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৯
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭০
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭১
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭২
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৩
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৪
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৫
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৬
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৭
  • সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৮
  • শেষ কথা-আল কোরআন তেলাওয়াত

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৭

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الأَسْوَدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ بِمَكَّةَ فَسَجَدَ فِيهَا، وَسَجَدَ مَنْ مَعَهُ، غَيْرَ شَيْخٍ أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ وَقَالَ يَكْفِينِي هَذَا. فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا.

বাংলা অনুবাদঃ

আরো পড়ুণঃ রমজান এর ফজিলত জানতে চাপ দিন 

"আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় সূরাহ্ আন্-নাজম তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি সাজদাহ্ করেন এবং একজন বৃদ্ধ লোক ছাড়া তাঁর সঙ্গে সবাই সাজদাহ্ করেন। বৃদ্ধ লোকটি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে তার কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার জন্য এ যথেষ্ট। আমি পরবর্তীতে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে"।  

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৮

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْجُمُعَةِ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ {الم * تَنْزِيلُ} السَّجْدَةَ وَ{هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}

বাংলা অনুবাদঃ

আবু হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত।   তিনি বলেন,  নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার  ফজরের সালাতে الم تَنْزِيلُ সূরাহ আস সাজদাহ এবং هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ সূরাহ ইনসান তিলাওয়াত করতেন। 

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৬৯ 

আরবি উচ্চারণঃ 

---حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو النُّعْمَانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ {ص} لَيْسَ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ، وَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا.

বাংলা অনুবাদঃ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ্ স-দ এর সাজদাহ্ অত্যাবশ্যক সাজদাহ্সমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সাজদাহ্ করতে দেখেছি। 

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭০

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ سُورَةَ النَّجْمِ فَسَجَدَ بِهَا، فَمَا بَقِيَ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ إِلاَّ سَجَدَ، فَأَخَذَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ، فَرَفَعَهُ إِلَى وَجْهِهِ وَقَالَ يَكْفِينِي هَذَا، فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا.

বাংলা অনুবাদঃ

قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

"ইবনু ‘আববাস (রাযি.) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন"।

"আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ আন্ নাজ্ম তিলাওয়াত করেন, অতঃপর সাজদাহ্ করেন। তখন উপস্থিত লোকদের এমন কেউ বাকী ছিল না, যে তাঁর সঙ্গে সাজদাহ্ করেনি। কিন্তু এক ব্যক্তি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে মুখমন্ডল পর্যন্ত তুলে বলল, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। [‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন] পরে আমি এ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে"।

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭১

আরবি উচ্চারণঃ

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَجَدَ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ. وَرَوَاهُ ابْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَيُّوبَ.

বাংলা অনুবাদঃ

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَسْجُدُ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ.

"আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বিনা উযূতে তিলাওয়াতের সাজদাহ্ করেছেন"।

"ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ ওয়ান্-নাজ্ম তিলাওয়াতের পর সাজদাহ্ করেন এবং তাঁর সাথে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সাজদাহ্ করেছিল"। 

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭২

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ، سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ ـ رضى الله عنه ـ فَزَعَمَ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم {وَالنَّجْمِ} فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا.

বাংলা অনুবাদঃ

"যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সূরাহ্ ওয়ান্ন নাজ্ম তিলাওয়াত করা হল কিন্তু তাতে তিনি সাজদাহ্ করেননি"।

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৩

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم {وَالنَّجْمِ} فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا.

বাংলা অনুবাদঃ 

"যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে সূরাহ্ ওয়ান্ নাজ্ম তিলাওয়াত করলাম। এতে তিনি সাজদাহ্ করেননি"।

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৪

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، وَمُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَرَأَ {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} فَسَجَدَ بِهَا فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَلَمْ أَرَكَ تَسْجُدُ قَالَ لَوْ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ لَمْ أَسْجُدْ.

বাংলা অনুবাদঃ

"আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে দেখলাম, তিনি إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন এবং সাজদাহ্ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি কি আপনাকে সাজদাহ্ করতে দেখিনি? তিনি বললেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাজদাহ্ করতে না দেখলে সাজদাহ্ করতাম না"।

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৫

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ فِيهَا السَّجْدَةُ، فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ، حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا مَوْضِعَ جَبْهَتِهِ.

বাংলা অনুবাদঃ

وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لِتَمِيمِ بْنِ حَذْلَمٍ وَهُوَ غُلَامٌ فَقَرَأَ عَلَيْهِ سَجْدَةً فَقَالَ اسْجُدْ فَإِنَّكَ إِمَامُنَا فِيهَا.

"তামীম ইবনু হাযলাম নামক এক বালক সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াত করলে ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) তাঁকে (সাজ্দাহ করতে আদেশ করে) বলেন, এ ব্যাপারে তুমিই আমাদের ইমাম"।

"ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন, যাতে সাজদাহর আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সাজদাহ্ করলেন এবং আমরাও সাজদাহ্ করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না"। 

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৬

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ السَّجْدَةَ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَهُ فَنَزْدَحِمُ حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا لِجَبْهَتِهِ مَوْضِعًا يَسْجُدُ عَلَيْهِ.

বাংলা অনুবাদঃ

"ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তাঁর নিকট থাকতাম, তখন তিনি সাজদাহ্ করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সাজদাহ্ করতাম। এতে এত ভীড় হতো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সাজদাহ্ করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না"।

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৭

আরবি উচ্চারণঃ 

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهُدَيْرِ التَّيْمِيِّ ـ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَبِيعَةُ مِنْ خِيَارِ النَّاسِ عَمَّا حَضَرَ رَبِيعَةُ مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ قَرَأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى الْمِنْبَرِ بِسُورَةِ النَّحْلِ حَتَّى إِذَا جَاءَ السَّجْدَةَ نَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدَ النَّاسُ، حَتَّى إِذَا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الْقَابِلَةُ قَرَأَ بِهَا حَتَّى إِذَا جَاءَ السَّجْدَةَ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا نَمُرُّ بِالسُّجُودِ فَمَنْ سَجَدَ فَقَدْ أَصَابَ، وَمَنْ لَمْ يَسْجُدْ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ. وَلَمْ يَسْجُدْ عُمَرُ ـ رضى الله عنه. وَزَادَ نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَفْرِضِ السُّجُودَ إِلاَّ أَنْ نَشَاءَ.

বাংলা অনুবাদঃ

وَقِيلَ لِعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ الرَّجُلُ يَسْمَعُ السَّجْدَةَ وَلَمْ يَجْلِسْ لَهَا قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ قَعَدَ لَهَا كَأَنَّهُ لاَ يُوجِبُهُ عَلَيْهِ وَقَالَ سَلْمَانُ مَا لِهَذَا غَدَوْنَا وَقَالَ عُثْمَانُtإِنَّمَا السَّجْدَةُ عَلَى مَنْ اسْتَمَعَهَا وَقَالَ الزُّهْرِيُّ لاَ يَسْجُدُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ طَاهِرًا فَإِذَا سَجَدْتَ وَأَنْتَ فِي حَضَرٍ فَاسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ فَإِنْ كُنْتَ رَاكِبًا فَلاَ عَلَيْكَ حَيْثُ كَانَ وَجْهُكَ وَكَانَ السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ لاَ يَسْجُدُ لِسُجُودِ الْقَاصِّ.

"ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি সাজদাহর আয়াত শুনল কিন্তু এর জন্য সে বসেনি (তার কি সাজদাহ্ দিতে হবে?) তিনি বললেন, তুমি কি মনে কর সে যদি তা শোনার জন্য বসতো (তা হলে কি) তাকে সাজদাহ্ করতে হত? [বুখারী (রহ.) বলেন] যেন তিনি তার জন্য সাজদাহ্ ওয়াজিব মনে করেন না। সালমান (ফারসী) (রাযি.) বলেছেন, আমরা এ জন্য (সাজ্দাহর আয়াত শোনার জন্য) আসিনি। ‘উসমান (ইবনু ‘আফ্ফান) (রাযি.) বলেছেন, যে মনোযোগসহ সাজদাহর আয়াত শোনে শুধু তার উপর সাজদাহ্ ওয়াজিব। যুহরী (রহ.) বলেছেন, পবিত্র অবস্থা ছাড়া সাজদাহ্ করবে না। যদি তুমি আবাসে থেকে সাজদাহ্ কর, তবে কিবলামুখী হবে। যদি তুমি সওয়ার অবস্থায় হও, তবে যে দিকেই তোমার মুখ হোক না কেন, তাতে তোমার কোন দোষ নেই। আর সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) বক্তার বক্তৃতায় সাজদাহর আয়াত শুনে সাজদাহ্ করতেন না"।

আরো পড়ুনঃ রমজান পালন করার কিছু হাদিস জানুন

"উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এক জুমু‘আহর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে সুরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সাজদাহর আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর হতে নেমে সাজদাহ্ করলেন এবং লোকেরাও সাজদাহ্ করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমু‘আহ এল, তখন তিনি সে সূরাহ্ পাঠ করেন। এতে যখন সাজদাহর আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমরা যখন সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সাজদাহ্ করবে সে ঠিকই করবে, যে সাজদাহ্ করবে না তার কোন গুনাহ নেই। তার বর্ণনায় (বর্ণনাকারী বলেন) আর ‘উমার (রাযি.) সাজদাহ্ করেননি। নাফি‘ (রহ.) ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে আরো বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা সাজদাহ্ ফরজ করেননি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সাজদাহ্ করতে পারি"। 

সহীহ বুখারী হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৮

আরবি উচ্চারণঃ

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي بَكْرٌ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ الْعَتَمَةَ فَقَرَأَ {إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} فَسَجَدَ فَقُلْتُ مَا هَذِهِ قَالَ سَجَدْتُ بِهَا خَلْفَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ أَزَالُ أَسْجُدُ فِيهَا حَتَّى أَلْقَاهُ.

বাংলা অনুবাদঃ

"আবূ রাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করেছিলাম। তিনি সালাতে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সাজদাহ্ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? তিনি বললেন, এ সূরাহ্ তিলাওয়াতের সময় আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এ সাজদাহ্ করেছিলাম। তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সাজদাহ্ করতে থাকব"।

শেষ কথা-আল কোরআন তেলাওয়াত

এতক্ষণ যে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লেন সেই পোষ্টটি ছিল আল কোরআন তেলোয়াতের সহিত বুখারী বারটি হাদিস। আশা করছি সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াতের সহিহ বুখারী যে হাদিসগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেই হাদীসগুলোর আলোয় আপনি আলোকিত হয়েছেন। এমনকি হাদিসগুলো পড়ার মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত সম্পর্কিত সমস্ত ধারণা আপনি পেয়ে গেছেন।

এখন যদি আপনার কাছে মনে হয়ে থাকে আমরা আমাদের এই পোষ্টের মধ্যে আপনার প্রয়োজনের সমস্ত তথ্য গুলো উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই পোস্টের নিচে একটি মন্তব্য করে যাবেন কারণ আপনার একটি মন্তব্য আমাদের পোস্ট লেখার আগ্রহ কয়েকজন বৃদ্ধি করে দেয়। এমনকি আপনি চাইলে আমাদের এই পোস্টটি আপনার ফেসবুক আইডি অথবা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন কারণ তারা এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আল কুরআন তেলাওয়াতের সহিত বুখারী. হাদিস গুলো সম্পর্কে জানতে পারবে। এছাড়াও এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট করতে চাইলে আমাদের ওয়েব সাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ড্রিম সেন্টার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url